ঢাকা ১১:১৭:২৭ পিএম | ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে ট্রেন ছিনতাই পরিচয়পত্র দেখে হত্যা করা হয় যাত্রীদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 17, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ছিনতাই হওয়া ট্রেন থেকে যে যাত্রীরা বেঁচে ফিরেছেন, ঘটনাবলির পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন তারা। কখন ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ল, কখন সেই ট্রেনের কামরায় ঢুকে পড়লেন বেলুচ বিদ্রোহীরা, তারা ঠিক কী কী করলেন, বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রীদের অনেককে শুরুতেই মেরে ফেলেছিলেন বিদ্রোহীরা। পরিচয়পত্র দেখে দেখে যাত্রীদের হত্যা করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন তারা। আবার কিছু যাত্রীকে পণবন্দি করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গত বুধবার রাতেই এই অভিযান সমাপ্ত হয় বলে জানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সেনার গুলিতে মোট ৩৩ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। ৩০০-রও বেশি যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের হাতে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও মোট মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা নোমান আহমেদ। ঈদ উপলক্ষে কোয়েটা থেকে তিনি জাফর এক্সপ্রেসে বাড়ি ফিরছিলেন। অপহরণের মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ট্রেন চলছিল। আচমকা একটা বিস্ফোরণের শব্দ পেলাম। আমরা সবাই কামরার মেঝেতে শুয়ে পড়েছিলাম। তার পর দ্রুত কামরার দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম গুলি চলছে, দরজা বন্ধ করে রাখতে পারলে বেঁচে যাব। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বেলুচ বিদ্রোহীরা ওই কামরায় ঢোকেন।

নোমানের বর্ণনা অনুযায়ী, কামরায় ঢুকে নারী এবং শিশুদের আলাদা করছিলেন বিদ্রোহীরা। তাদের রেখে বাকি যাত্রীদের ট্রেন থেকে বের করা হয়েছিল। তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। এই সময় কয়েকজন যাত্রী আহত হয়ে পড়েন। তারা কামরা থেকে বেরোতে পারেননি। নোমান বলেন, ‘প্রথমে ওদের ট্রেন থেকে নেমে আসার নির্দেশ দেওয়া হলো। যখন ওরা বেরোতে পারল না, বন্দুকধারীরা আবার কামরার ভেতরে ঢুকল এবং ওদের সবাইকে গুলি করে মেরে দিল।’ সংবাদ সংস্থা এএফপিকে আরেক যাত্রী মুহাম্মদ নভিদ জানান, প্রত্যেকের পরিচয়পত্র দেখতে চাইছিলেন বিদ্রোহীরা। কাদের হত্যা করা হবে, তা বাছাই করা হচ্ছিল। নভিদের কথায়, ‘ওরা আমাদের এক এক করে ট্রেন থেকে নেমে আসতে বলল। নারীদের আলাদা করে সরে যেতে বলল। বয়স্কদেরও আলাদা করা হলো। ওরা বলেছিল, কারও কোনো ক্ষতি করবে না। ১৮৫ জন যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরিচয়পত্র দেখে বেছে বেছে তাদের মধ্যে অনেককে মেরে ফেলা হলো।’ কোয়েটা থেকে পেশোয়ার যাওয়ার পথে বেলুচিস্তানের বোলানে জাফর এক্সপ্রেস আটকান বিদ্রোহীরা। ট্রেন ছিনতাই করে নেওয়া হয়। ৪৫০ জন যাত্রী ছিলেন ওই ট্রেনে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বিদ্রোহীদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু করে মঙ্গলবার রাত থেকেই। বুধবার রাতে প্রায় ৩০ ঘণ্টার অভিযানের পর সেনাবাহিনী জানায়, সব বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : জার্নাল ডেস্ক

কমেন্ট বক্স